প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। সেই বাঁধ দীর্ঘ সময় ধরে চালু থাকায় আজ তা বাংলাদেশের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল তাঁর বাণীতে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন:
মরুকরণ প্রক্রিয়া: গঙ্গা নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের ফলে দেশের বিশাল একটি অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। পানিসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্যের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।
ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চনা: আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘন করে ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে, যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা: তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সাময়িকভাবে বাঁধ চালুর যে অনুমতি দিয়েছিল, তার খেসারত আজও দেশের মানুষকে দিতে হচ্ছে।
১৬ মে-র তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন:
আজ থেকে ৪৯ বছর আগে (১৯৭৬ সালে) মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে লাখো জনতা রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিল।
এই কর্মসূচির মাধ্যমেই ফারাক্কা ইস্যুটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আসে এবং এটি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে পরিণত হয়।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৬ মে-র সেই অকুতোভয় পদক্ষেপ আজও এদেশের জনগণকে যেকোনো অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে।
ফারাক্কা ইস্যুটি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার নদী রাজনীতি ও পরিবেশগত বিবর্তনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ প্রকৌশল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে গঙ্গা ও এর শাখা নদীগুলো এ অঞ্চলের কৃষির মূল চালিকাশক্তি ছিল। তখন বাঁধ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়েও নদীপথই ছিল বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম। ১৯০০ সালের সেই মুক্ত প্রবাহ থেকে ২০২৬ সালের এই বাঁধবন্দি নদী—বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ফারাক্কা বাঁধের সূচনা ও লংমার্চ (১৯৭১-১৯৭৬): বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঠিক পরেই ফারাক্কা বাঁধ চালুর বিষয়টি সামনে আসে। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর সেই ঐতিহাসিক লংমার্চ ১৯০০ সালের পর থেকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পরিবেশবাদী গণআন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন পররাষ্ট্রনীতি: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বক্তব্য সেই সার্বভৌমত্ব রক্ষারই বহিঃপ্রকাশ।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই প্রমত্তা পদ্মা ও গঙ্গার রূপ ২০২৬ সালে এসে শীর্ণকায় রূপ নিয়েছে। উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে দেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নদী রক্ষার লড়াইটি এখন জীবন-মরণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাস সাক্ষী, উজানের দেশ যখন একতরফাভাবে অভিন্ন নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করে, তখন ভাটির দেশের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯০০ সালের সেই সুজলা-সুফলা বাংলা থেকে ২০২৬ সালের এই ঊষর ভূমির হাতছানি—এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, একটি বড় মানবিক সংকট। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, মওলানা ভাসানীর সেই লড়াই আজও প্রাসঙ্গিক। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে নদী ও পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ই হবে আগামীর অন্যতম প্রধান জাতীয় এজেন্ডা।
সূত্র: ১. ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাণী (১৫ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: ফারাক্কা লংমার্চ ও দক্ষিণ এশিয়ার নদী রাজনীতির ইতিহাস (১৯৭৬-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |